
দীর্ঘদিন ধরে নীরবে এক কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। পিসিওএসসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় তিনি এখন বেশ ক্লান্ত। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নিজের সেই অবস্থার কথাই খোলাখুলি জানিয়েছেন তিনি।
স্ট্যাটাসে অভিনেত্রী লিখেছেন, পিসিওএসের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। চুল পড়া আর ত্বকের নানা সমস্যা তো আছেই। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অ্যান্ড্রোজেনজনিত সমস্যা। এসব সামলাতে সামলাতে জীবনের প্রতি আগ্রহই কমে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঘুমের সমস্যাও তাকে কম ভোগাচ্ছে না। শবনম ফারিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ কবে রাতে ঠিকমতো ঘুমিয়েছেন, কিংবা টানা সাত-আট ঘণ্টা ঘুমিয়ে সকালে উঠেছেন, সেটাই তার মনে পড়ে না।
এর পাশাপাশি উদ্বেগ ও বিষণ্নতার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। শরীরের ভেতরের এই অস্থিরতা আর মনের ওপর চাপ, দুটো মিলিয়ে দিনগুলো যে সহজ কাটছে না, তা তার লেখাতেই স্পষ্ট।
শরীরে কর্টিসল কমবে কি না, তা নিয়েও হতাশার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। কর্টিসল মূলত শরীরের স্ট্রেস হরমোন। এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টার কমতি রাখেননি তিনি। না খেয়ে থেকেছেন, কঠোর ব্যায়াম করেছেন, ওজন তোলার মতো পরিশ্রমও করেছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, না খাওয়ার কারণে কয়েকবার রক্তে শর্করা কমে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন শবনম ফারিয়া। এই ঘটনাগুলোই তার স্ট্যাটাসে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্ট্যাটাসে তিনি ওজন নিয়ে সামাজিক চাপের কথাও তুলে ধরেছেন। তার লেখা থেকে বোঝা যায়, শরীর নিয়ে চারপাশের প্রত্যাশা আর মন্তব্য এই কঠিন সময়ে তাকে আরও ক্লান্ত করে তুলেছে।
পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম নারীদের মধ্যে বেশ পরিচিত একটি হরমোনজনিত সমস্যা। এতে অনিয়মিত মাসিক, ত্বকে ব্রণ, অতিরিক্ত চুল পড়া ও ওজন বাড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ ও ঘুমের সমস্যাও যুক্ত হয়। তবে চিকিৎসা ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তার এই লেখা প্রকাশের পর ভক্তদের অনেকেই সহানুভূতি জানিয়েছেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার কামনা করেছেন।
