Skip to content

প্রীতম–শেহতাজের ১০ বছরের পথচলা শেষ, আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তে দুজন কী বললেন

প্রীতম–শেহতাজের ১০ বছরের পথচলা শেষ, আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তে দুজন কী বললেন

গত রোববার রাতে ফেসবুকে আলাদা দুটি পোস্টে সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসান এবং মডেল–অভিনেত্রী শেহতাজ মনিরা হাশেম নিজেদের দাম্পত্যজীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরগরম হয়ে ওঠে।

ঘোষণার সময়টা ছিল রাত ১০টা ৪১ মিনিটের দিকে। প্রথমে প্রীতম তাঁর ভেরিফায়েড পেজে পোস্ট দেন, এক মিনিট পর শেহতাজ নিজের প্রোফাইলে। দুজনের বক্তব্য প্রায় একই সুরে বাঁধা।

প্রীতম লিখেছেন, দশ বছরের পথচলার পর পারস্পরিক বোঝাপড়ায় তিনি বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একসঙ্গে কাটানো সময় ও স্মৃতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, একে অপরের প্রতি সম্মান আর শুভকামনা থাকবেই।

তাহলে কারণটা কী? স্পষ্ট কোনো ঘটনার কথা কেউই বলেননি। তাঁদের ভাষ্য, সময়ের সঙ্গে বোঝাপড়ার কিছু বড় পার্থক্য সামনে এসেছে, আর আলাদা পথে এগোনোই দুজনের জন্য ভালো মনে হয়েছে।

সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া নয়, সেটাও পরিষ্কার করেছেন তাঁরা। অনেক ভেবে, নিজেদের মধ্যে কথা বলে এবং পরিবারের সমর্থন নিয়েই এ পথে হেঁটেছেন। এখন বিবাহবিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে।

দুজনেরই একটা অনুরোধ আছে। এই কঠিন সময়ে যেন তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসর আর গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানো হয়। বন্ধু, সহকর্মী ও গণমাধ্যমের কাছে তাঁরা সহমর্মিতা চেয়েছেন।

এবার একটু পেছনে ফেরা যাক।

প্রীতমের জনপ্রিয় গান ‘জাদুকর’-এর মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছিলেন শেহতাজ। ২০১৭ সালে সেই কাজের সময়ই দুজনের পরিচয়, পরে সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। শুরুর দিকে সম্পর্কটা অবশ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

দীর্ঘদিনের প্রেমের পর ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলের একটি হোটেলে দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের ছবিতে প্রীতমের পরনে ছিল সাদা শেরওয়ানি, শেহতাজের গোলাপি লেহেঙ্গা।

বিয়ের পরও ফেসবুকে নিয়মিত একসঙ্গে সময়ের ছবি দিয়েছেন তাঁরা। এই বছরের জানুয়ারিতে রাফসান সাবাব ও জেফার রহমানের বিয়ের অনুষ্ঠানেও দুজনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। তাই ঘোষণাটা অনেকের কাছেই চমকের মতো এসেছে।

তবে একেবারে অজানা ছিল না বিষয়টা। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না, আর কাছের মানুষদের মধ্যে আলাদা হওয়ার আলোচনাও ছিল। এ নিয়ে দুজনের কেউ আলাদা করে কিছু বলেননি।

এর মধ্যেই অন্য এক কারণে আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী সাফা কবির। সোমবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি নিজের ভেরিফায়েড পেজে একটি ছবি পোস্ট করেন।

ছবিতে দেখা যায়, বেগুনি রঙের সোফায় বাথরোব পরে আয়েশ করে বসে আছেন সাফা। মুখে শিট মাস্ক, চোখে কালো সানগ্লাস। পুরো ব্যাপারটাই ‘চিল’ মেজাজের

পোস্টে প্রীতম–শেহতাজ বা বিয়ে-বিচ্ছেদ নিয়ে একটি শব্দও লেখেননি সাফা। তবু নেটিজেনরা দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে ফেলেছেন। কারণ, এখনো বিয়ে করেননি তিনি, আর প্রীতম–শেহতাজের বিয়েতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল।

মন্তব্যের ঘরে মজার ছড়াছড়ি। কেউ লিখেছেন, সাফা আপু নিজের জনপ্রিয় মিম নিজেই রিক্রিয়েট করে ফেললেন। আরেকজনের মন্তব্য, সবাই বিয়ে করে ফেললেও তিনি তাঁর ফ্রেন্ড সার্কেলের সাফা কবির, নির্ভার।

এটা পুরোটাই দর্শকের কৌতূহল আর রসিকতা। সাফার পক্ষ থেকে কোনো ইঙ্গিত নেই, তাই এর বেশি কিছু ধরে নেওয়ার সুযোগও নেই।

একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। যাঁদের আমরা কখনো সামনাসামনি দেখিনি, তাঁদের বিচ্ছেদে মন খারাপ হয় কেন?

মনোবিজ্ঞানে এর একটা ব্যাখ্যা আছে। গান, নাটক আর সামাজিক মাধ্যমে বছরের পর বছর দেখতে দেখতে তারকাদের সঙ্গে দর্শকের একতরফা এক ধরনের আত্মীয়তা তৈরি হয়ে যায়। এটাকে বলা হয় প্যারাসোশ্যাল সম্পর্ক। তাই প্রিয় জুটির আলাদা হওয়া অনেকের কাছে নিজের চেনা কারও ক্ষতির মতো লাগে।

শেষ পর্যন্ত এটা দুজন মানুষের একান্ত সিদ্ধান্ত। তাঁরা নিজেরাই বলেছেন, সম্মান ও শুভকামনা রেখেই আলাদা হচ্ছেন। গুজব আর অনুমানের চেয়ে সেই অনুরোধ মানাটাই এখন সবচেয়ে বড় ভদ্রতা।

পরিবার ও বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এলে সেটাও জানানো হবে।

তানভীর হাসান

তানভীর হাসান একজন বিনোদন ও পপ-কালচার গবেষক। দেশি-বিদেশি শোবিজ, সেলিব্রিটিদের লাইফস্টাইল ও ট্রেন্ডিং খবর কভার করতে তিনি ভালোবাসেন। তিনি wowbangla.com-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *