
দশেরার ছুটির সপ্তাহান্তে বড় পর্দায় এসেছে তেলুগু ঐতিহাসিক অ্যাকশন ড্রামা রণবালী। মুক্তি পেয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬, পরিচালনায় রাহুল সংকৃত্যায়ন। প্রধান চরিত্রে বিজয় দেবেরাকোন্ডা, পাশে রশ্মিকা মান্দানা। প্রথম দিন থেকেই ছবিটি নিয়ে আলোচনা চলছে, আর মতামতও ভাগ হয়ে গেছে।
ছবির পটভূমি ব্রিটিশ ভারতের রায়ালসীমা অঞ্চল। ১৮৭০-এর দশকের মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষের সময়টা এখানে ধরা হয়েছে। ব্রিটিশরা নিজেদের দেশে শস্য পাঠাতে চায়, তাই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে মাদ্রাজ উপকূল পর্যন্ত রেললাইন বসানো হয়। সেই কাজে গ্রামের মানুষকে নির্মম পরিস্থিতিতে খাটানো হয়, আর দুর্ভিক্ষ এলে তাদের কষ্ট আরও বাড়ে। সেখান থেকেই উঠে আসে রণবালী, যে মানুষের পাশে দাঁড়ায়।
বিজয় দেবেরাকোন্ডা রণবালীর ভূমিকায়, রশ্মিকা মান্দানা তাঁর স্ত্রী জয়াম্মার ভূমিকায়। ব্রিটিশ খলনায়ক স্যার থিওডোর হেক্টরের চরিত্রে আছেন আর্নল্ড ভসলু। রবার্ট মালথাসের চরিত্রে দেখা যাবে লুক ম্যাকগিবনিকে। প্রযোজনা মাইথ্রি মুভি মেকার্স, পরিবেশনায় টি-সিরিজ ফিল্মস।
ছবির আরেকটি আলাদা দিক হলো বিজয়-রশ্মিকার সম্পর্ক। এটি তাঁদের তৃতীয় ছবি, এর আগে এসেছিল গীতা গোবিন্দম (২০১৮) আর ডিয়ার কমরেড (২০১৯)। ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে তাঁদের বিয়ে হয়েছে, তাই বিয়ের পর পর্দায় এটাই প্রথম জুটি। পরিচালক রাহুল সংকৃত্যায়নের সঙ্গে বিজয় আগে কাজ করেছেন ট্যাক্সিওয়ালা (২০১৮) ছবিতে।
প্রথমে ছবিটির মুক্তির কথা ছিল ১১ সেপ্টেম্বর। পরে তারিখ পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর করা হয়, যাতে দশেরার ছুটির সুবিধা পাওয়া যায়।
সমালোচকদের মধ্যে ভরদ্বাজ রঙ্গন ছবিটিকে বলেছেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী পিরিয়ড সাগা। তাঁর মতে, ছবির প্রযুক্তিগত দিক যতটা জোরালো, আবেগের প্রভাব ততটা নয়। তিনি দেখিয়েছেন, শোজিত সরকার সর্দার উধম-এ বাস্তবধর্মী পথে গেছেন, আর এসএস রাজামৌলি আরআরআর-এ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রায় অতিমানবীয় রূপ দিয়েছেন। রণবালী এই দুইয়ের মাঝামাঝি একটা পথ নিতে চেয়েছে।
বাস্তবতার অংশটা আসে ইতিহাসের খুঁটিনাটি থেকে। দুর্ভিক্ষ, রেললাইন বসানোর কাজ, সাম্রাজ্যের চাকরির লোভে নিজের লোকের সঙ্গে বেইমানি করা ভারতীয়, আবার পদোন্নতির আশায় বেশি ফসল পাঠানো ব্রিটিশ কর্মকর্তা, সবই ছবিতে আছে। ভরদ্বাজ রঙ্গনের চোখে খলনায়ক হেক্টর অনেকটা আজকের দিনের শোষণকারী কারখানা-মালিকের মতো। তবে তাঁর শেষ কথা হলো, অনন্য ঐতিহাসিক পটভূমি থাকলেও ছবিটা শেষ পর্যন্ত চেনা নায়ক বনাম খলনায়কের মশলা ছাঁচেই আটকে গেছে। দৃশ্যগতভাবে ছবিটি দারুণ, সেটা তিনি মানছেন।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। এক্স-এ (সাবেক টুইটার) রেটিং এসেছে ১.৫ থেকে ৩.৫ পর্যন্ত। বিজয় ও রশ্মিকার অভিনয় আর তাঁদের রসায়নের প্রশংসা করেছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, তাঁদের দৃশ্যগুলো ভালো, কিন্তু বাকি গল্প ধীরগতির ও একঘেয়ে। দ্বিতীয়ার্ধ, পুনরাবৃত্তিমূলক দৃশ্য, মাত্রাতিরিক্ত সহিংসতা আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক নিয়ে অভিযোগও কম নেই। একটি তেলুগু সমালোচনায় প্রোডাকশন ডিজাইন আর সেটের প্রশংসা হয়েছে, তবে ছবির প্রভাবকে বলা হয়েছে মাঝারি।
এর মধ্যে রশ্মিকা ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। জয়াম্মাকে তিনি বর্ণনা করেছেন এমন এক নারী হিসেবে, যার ভালোবাসা খুব খাঁটি এবং যে নিজের মানুষের জন্য রুখে দাঁড়ায়। দর্শকের ভালোবাসায় তিনি অভিভূত, এ কথাও লিখেছেন। ছবির মূল ভাবনা নিয়ে তাঁর বক্তব্য, এটি সম্প্রদায়ের শক্তি, ঈশ্বরে বিশ্বাস আর অন্ধকার সময়েও ছোট ছোট আনন্দ উদযাপনের গল্প। বাইরের কেউ হস্তক্ষেপ করতে এলে সবাই যে একজোট হয়, সেটাও তিনি তুলে ধরেছেন।
রশ্মিকা দর্শকদের সিনেমা হলে গিয়ে ছবিটা দেখতে বলেছেন। এ কথা তিনি নিজের ছবি বলে বলছেন না, বলছেন ভালো ছবি পুরো অভিজ্ঞতা নিয়ে দেখা উচিত বলে। পরিচালক রাহুল সংকৃত্যায়নকে তিনি দেশের অন্যতম সুন্দর গল্পকার বলেছেন। বিজয়ের কাজের প্রতি নিজের চিরকালীন ভক্তির কথাও জানিয়েছেন। সইয়ের জায়গায় লিখেছেন “ইওর জয়াম্মা”।
শিরোনাম অনুযায়ী পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গাও বিজয় দেবেরাকোন্ডা এবং রশ্মিকার সঙ্গে তাঁর রসায়নের প্রশংসা করেছেন। বিজয়ের ক্যারিয়ারের শুরুতে অর্জুন রেড্ডি ছবির পরিচালক ছিলেন তিনিই, তাই তাঁর মন্তব্য অনেকের নজর কেড়েছে।
এবার বক্স অফিসের কথা। মুক্তির আগে অগ্রিম বুকিং ছিল ধীরগতির। মুক্তির দিনের আগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনের জন্য প্রায় ৪.৩ কোটি টাকার অগ্রিম বিক্রি হয়েছিল, যার বড় অংশ এসেছে তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটক থেকে। শীর্ষ শহর ছিল হায়দরাবাদ। উত্তর আমেরিকায় প্রিমিয়ার ও প্রথম দিন মিলিয়ে অগ্রিম বিক্রি প্রায় ২.৭ লাখ ডলারে পৌঁছেছিল, তবে বিজয়ের আগের ছবি কিংডমের তুলনায় তা অনেক কম।
একই দিনে রজনীকান্তের জেলার ২ মুক্তি পাওয়ায় রণবালীকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয়েছে।
প্রথম দিনের সংগ্রহ নিয়ে সংখ্যাগুলো এখনো এক জায়গায় আসেনি। স্যাকনিল্ক-এর বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি প্রথম দিনে প্রায় ৭.৭৬ কোটি টাকা আয় করেছে, যার প্রায় পুরোটাই এসেছে তেলুগু সংস্করণ থেকে। তামিল ও হিন্দি ডাব থেকে আয় খুবই সামান্য। সংখ্যাটি ফ্যামিলি স্টার-এর প্রথম দিনের আয় (৫.৭৫ কোটি) ছাড়িয়েছে। তবে বিজয়ের সর্বোচ্চ ওপেনার লাইগার-এর (১৫.৯৫ কোটি) থেকে অনেক কম। এই আয় ধরে রাখতে ছবিটিকে মুখে মুখে প্রচারের ওপর ভরসা করতে হবে, আর সেটা বোঝা যাবে সপ্তাহান্তের পর।
তাই রণবালী কাদের জন্য? যাঁরা পিরিয়ড ড্রামা, বড় পর্দার দৃশ্য আর বিজয়-রশ্মিকার জুটি পছন্দ করেন, তাঁদের ভালো লাগতে পারে। যাঁরা ঐতিহাসিক পটভূমিতে একেবারে নতুন ধরনের গল্প আশা করছেন, তাঁরা কিছুটা হতাশ হতে পারেন। ছবির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি দুই দিকেই আছে, তাই নিজের চোখে দেখে মত তৈরি করাই ভালো।
তানভীর হাসান
তানভীর হাসান একজন বিনোদন ও পপ-কালচার গবেষক। দেশি-বিদেশি শোবিজ, সেলিব্রিটিদের লাইফস্টাইল ও ট্রেন্ডিং খবর কভার করতে তিনি ভালোবাসেন। তিনি wowbangla.com-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আপনার পছন্দ হতে পারে:

মুখ খুললেন বিজয়পুত্র জেসন, রাশমিকার "ভালোবাসি" নিয়ে যা বললেন দেবেরাকোন্ডা

রজনীকান্তের জেলার ২ ট্রেলার দেখে কেন এত উত্তেজনা? জেনে নিন সব তথ্য

ইত্লু অর্জুনা’র মুক্তি পিছিয়ে গেল, ৩০ অক্টোবর আসছে না অনীশ-অনস্বরা রাজনের ছবি

প্রথম সপ্তাহেই ৫৭৬ কোটি পার, রেকর্ড গড়ল রজনীকান্তের ‘জেলার ২’

১০০ দিন পার করল জয়া আহসানের ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’, এবার ঘরে বসেই দেখা যাচ্ছে
