
আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই গরম আর আর্দ্রতা থাকে। বর্ষায় বাতাস ভিজে থাকে, শীতে হঠাৎ শুষ্ক হয়ে যায়, আর রাস্তার ধুলোবালি তো আছেই। এই পরিবেশে ত্বক তেল, ঘাম আর ময়লায় সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। দামি প্রসাধনী ছাড়াও কিছু ছোট অভ্যাস মেনে চললে ত্বক অনেকটা ভালো থাকে।
১। দিনে দুবার মুখ ধোয়ার সঠিক নিয়ম
সকালে ঘুম থেকে উঠে আর রাতে ঘুমানোর আগে একটি মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। সারাদিনে বেশি ঘামলে বা বাইরে থেকে ফিরলে আরেকবার ধুয়ে নিতে পারেন। তবে বারবার ধোয়া ঠিক নয়, কারণ তাতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে গিয়ে উল্টো তেল উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে। খুব গরম পানির বদলে হালকা ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করা ভালো।
২। গোলাপজল ও শসার রসে ঘরোয়া টোনার
তুলায় একটু গোলাপজল নিয়ে মুখে আলতো করে বুলিয়ে নিলে ত্বক সতেজ লাগে। শসার রসও একই কাজ করে। শসা কুচি করে ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিন, তারপর ফ্রিজে রেখে দিন। গরমের দিনে বাইরে থেকে ফিরে এটি মুখে লাগালে বেশ আরাম পাওয়া যায়। এই রস ২-৩ দিনের বেশি রাখবেন না।
৩। তৈলাক্ত ত্বকেও কেন ময়েশ্চারাইজার দরকার
অনেকে ভাবেন তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগে না। এটা ভুল ধারণা। ত্বকে পানির ঘাটতি থাকলে সেটি আরও বেশি তেল ছাড়ে। তাই হালকা জেল-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। ঘরোয়া বিকল্প হিসেবে খাঁটি অ্যালোভেরা জেল ভালো কাজ দেয়। গাছ থেকে তাজা পাতা কেটে জেল বের করে পাতলা করে লাগান।
৪। মেঘলা দিনেও সানস্ক্রিন বাদ দেবেন না
মেঘলা দিনেও অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পৌঁছায়, আর আমাদের দেশে রোদের তীব্রতা সারা বছরই বেশি। ঘর থেকে বের হওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট আগে SPF ৩০ বা তার বেশি এবং PA+++ লেখা সানস্ক্রিন লাগান। দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে প্রতি দুই-তিন ঘণ্টা পর আবার লাগাতে হবে। এটাই মেচতা, কালচে দাগ আর অকাল বলিরেখা ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
৫। সপ্তাহে একবার-দুবার ঘরোয়া ফেসপ্যাক
ত্বক তৈলাক্ত হলে মুলতানি মাটির সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট বানান, ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক বা স্বাভাবিক ত্বকে এক চামচ টক দইয়ের সঙ্গে আধা চামচ মধু মেশানো প্যাক ভালো কাজ করে।
৬। হালকা স্ক্রাবিং, তবে সপ্তাহে একবারের বেশি নয়
ওটমিল গুঁড়ো করে একটু দুধ বা পানির সঙ্গে মিশিয়ে আলতো করে ঘষুন। চিনি বা মোটা দানার জিনিস দিয়ে জোরে ঘষবেন না, এতে ত্বকে ক্ষুদ্র ক্ষত তৈরি হতে পারে। ব্রণ থাকলে স্ক্রাব এড়িয়ে চলুন।
৭। ত্বকে সরাসরি লেবুর রস নয়
ঘরোয়া টিপস হিসেবে অনেকে সরাসরি লেবুর রস মুখে লাগাতে বলেন। এটি করবেন না। লেবুর রস ত্বকে জ্বালা, র্যাশ আর রোদে দাগ পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। নতুন কোনো উপাদান মুখে লাগানোর আগে কানের পেছনে বা হাতের ভেতরের দিকে অল্প লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।
৮। খাবার, পানি আর ঘুমে ভেতর থেকে ত্বকের যত্ন
দিনে অন্তত আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করুন, আর গরমে ঘাম বেশি হলে আরও বেশি। পেয়ারা, পেঁপে, কমলা, টমেটো আর সবুজ শাকসবজি ত্বকের জন্য উপকারী। ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ফলের রসও ভালো, তবে বাইরের কৃত্রিম পানীয় আর বেশি ভাজাপোড়া কমিয়ে দিন। রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম হলে ত্বক নিজে থেকেই মেরামত হওয়ার সুযোগ পায়।
৯। রাতের রুটিন: ময়লা তুলে ফেলা আর পরিচ্ছন্নতা
রাতের রুটিনে সবচেয়ে জরুরি হলো সানস্ক্রিন আর ধুলোময়লা পুরোপুরি তুলে ফেলা। ঘুমানোর আগে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান। বালিশের কভার আর মুখ মোছার তোয়ালে সপ্তাহে অন্তত দুবার বদলান, কারণ ভেজা আবহাওয়ায় এতে জীবাণু দ্রুত জমে।
১০। ঋতু বদলালে রুটিনও বদলে নিন
বর্ষায় ফাঙ্গাল সংক্রমণ আর ঘামাচির ঝুঁকি থাকে, তাই ত্বক শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন। শীতে ত্বক টানটান হয়ে ফেটে যেতে পারে, তখন একটু ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন আর গোসলের পানি বেশি গরম করবেন না।

ফল পেতে কতদিন লাগে, কখন ডাক্তার দেখাবেন
যেকোনো রুটিন কাজ করতে সময় লাগে, অন্তত চার-ছয় সপ্তাহ ধৈর্য ধরে লেগে থাকুন। তবে ব্রণ যদি ক্রমাগত বাড়ে, ত্বকে প্রচণ্ড চুলকানি, লালচে ভাব বা র্যাশ দেখা দেয়, তাহলে ঘরোয়া পদ্ধতিতে সময় নষ্ট না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
তানভীর হাসান
তানভীর হাসান একজন বিনোদন ও পপ-কালচার গবেষক। দেশি-বিদেশি শোবিজ, সেলিব্রিটিদের লাইফস্টাইল ও ট্রেন্ডিং খবর কভার করতে তিনি ভালোবাসেন। তিনি wowbangla.com-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আপনার পছন্দ হতে পারে:

সন্তান জন্মের মাত্র ছয় সপ্তাহ পর র্যাম্পে ফিরলেন বারবারা পালভিন, ভক্তদের জন্য রেখে গেলেন বড় বার্ত...

চুল পড়া কমাতে ঘরে বসেই বানান ৮টি কার্যকর হেয়ার প্যাক

ব্রণের দাগ দূর করার ৭টি ঘরোয়া উপায়, যা সত্যিই কাজ করে
