
ব্রণ সেরে যাওয়ার পরেও মুখে যে কালচে বা লালচে ছাপ থেকে যায়, সেটাই আমাদের অনেকের বড় মাথাব্যথা। ত্বকের চিকিৎসকেরা এটাকে বলেন পোস্ট-ইনফ্লেমেটরি পিগমেন্টেশন। ব্রণের প্রদাহের সময় ত্বক বাড়তি মেলানিন তৈরি করে, আর সেটাই দাগ হয়ে বসে থাকে। ভালো খবর হলো, হালকা দাগ ধৈর্য ধরে যত্ন নিলে ঘরোয়া উপায়েই অনেকটা মিলিয়ে যায়।
প্রথমেই আসা যাক অ্যালোভেরা জেলের কথায়। এতে থাকা অ্যালোসিন নামের উপাদান ত্বকের রঙ হালকা করতে সাহায্য করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তাজা পাতা থেকে জেল বের করে রাতে ঘুমানোর আগে দাগের ওপর পাতলা করে লাগান। সকালে ধুয়ে ফেলুন।
দ্বিতীয় উপায় মধু। মধুর জীবাণুনাশক ও প্রদাহ কমানোর গুণ আছে, তাই নতুন ব্রণ ঠেকাতেও এটা কাজে আসে। খাঁটি মধু দাগের জায়গায় লাগিয়ে পনেরো থেকে বিশ মিনিট রাখুন, তারপর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে নিন।
তৃতীয়ত, গ্রিন টি। ব্যবহার করা গ্রিন টি ব্যাগ ঠান্ডা করে নিন, তারপর আলতো করে মুখে বুলিয়ে নিন। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে।
চতুর্থ উপায়টি আমাদের দেশে খুব পরিচিত: হলুদ ও দই। আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়ার সঙ্গে এক টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে পেস্ট বানান। দাগের ওপর লাগিয়ে দশ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। তবে একটা সতর্কতা আছে, বেশি হলুদ দিলে ত্বকে সাময়িক হলদে ছোপ পড়তে পারে।
পঞ্চম, ওটমিল। এটি মৃদু এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে এবং মৃত কোষ সরাতে সাহায্য করে। ওটস গুঁড়া করে মধু বা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে আলতো হাতে মুখে ঘষুন। জোরে ঘষবেন না, তাতে ত্বক আরও খারাপ হতে পারে।
ষষ্ঠ উপায় হলো মুলতানি মাটি ও গোলাপজল। দুটো মিলিয়ে ঘন পেস্ট করে মুখে লাগান এবং শুকিয়ে আসার আগেই ধুয়ে ফেলুন। এটি অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়, ফলে ব্রণ কম হয়। ত্বক শুষ্ক হলে সপ্তাহে একবারের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।
সপ্তম এবং সবচেয়ে জরুরি বিষয়টি আসলে কোনো মাস্ক নয়, সানস্ক্রিন। রোদ লাগলে দাগ আরও গাঢ় হয়ে যায়। তাই ঘরের ভেতরে থাকলেও প্রতিদিন কমপক্ষে এসপিএফ ৩০ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, নইলে বাকি সব যত্নই বৃথা যেতে পারে।
কিছু ভুল এড়িয়ে চলুন। লেবুর রস সরাসরি মুখে লাগানো অনেকে পরামর্শ দেন, কিন্তু এটি ত্বকে জ্বালা ও রোদে পোড়াভাব তৈরি করতে পারে। বেকিং সোডাও ত্বকের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে। আর ব্রণ খোঁটা বা চিমটি কাটা নতুন দাগের সবচেয়ে বড় কারণ।
যেকোনো নতুন উপাদান পুরো মুখে লাগানোর আগে কানের পেছনে বা হাতের ভাঁজে অল্প করে লাগিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা না দিলে তবেই ব্যবহার শুরু করুন।
ফলের জন্য সময় দিতে হবে। সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহ নিয়মিত যত্নের পর পার্থক্য বোঝা যায়, আর গাঢ় দাগ মিলাতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। এক এক দিন এক এক জিনিস না ঘেঁটে, দুই-তিনটি উপায় বেছে নিয়ে নিয়মিত চালিয়ে যান।
যদি দাগ গর্তের মতো বসে যায়, কয়েক মাসেও হালকা না হয় বা ব্রণ ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তাহলে ঘরোয়া উপায়ে ভরসা না রেখে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। গর্তের মতো দাগের জন্য সাধারণত ঘরোয়া উপায় যথেষ্ট নয়, ডাক্তার প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারেন।
ব্রণের দাগ রাতারাতি যায় না, তবে সঠিক যত্ন, সানস্ক্রিন আর ধৈর্য থাকলে ত্বক ধীরে ধীরে আগের মতো পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
তানভীর হাসান
তানভীর হাসান একজন বিনোদন ও পপ-কালচার গবেষক। দেশি-বিদেশি শোবিজ, সেলিব্রিটিদের লাইফস্টাইল ও ট্রেন্ডিং খবর কভার করতে তিনি ভালোবাসেন। তিনি wowbangla.com-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আপনার পছন্দ হতে পারে:

চুল পড়া কমাতে ঘরে বসেই বানান ৮টি কার্যকর হেয়ার প্যাক

বাংলাদেশের গরম আর আর্দ্রতায় ত্বক ভালো রাখার ১০টি সহজ ঘরোয়া নিয়ম

সন্তান জন্মের মাত্র ছয় সপ্তাহ পর র্যাম্পে ফিরলেন বারবারা পালভিন, ভক্তদের জন্য রেখে গেলেন বড় বার্ত...
