
সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করতে গিয়ে উজ্জ্বল রঙের পোশাকে নাচতে থাকা একজন হাস্যোজ্জ্বল নারীকে দেখে থেমেছেন কি? সম্ভবত তিনিই নাওমি ওয়াতানাবে। জাপানের সবচেয়ে পরিচিত কৌতুকাভিনেত্রীদের একজন, যাঁর ইনস্টাগ্রামে ভক্তের সংখ্যা লক্ষ লক্ষ।
১৯৮৭ সালের ২৩ অক্টোবর তাইওয়ানে তাঁর জন্ম। বড় হয়েছেন জাপানে, আর সেখানেই কমেডির জগতে পা রাখেন।
খ্যাতির মোড় ঘোরে ২০০৮ সালে। জাপানি টিভিতে বিয়ন্সের নাচের নিজস্ব একটি সংস্করণ পরিবেশন করে তিনি দর্শকদের মন জয় করেন। সেই থেকেই তাঁর নাম হয়ে যায় “জাপানি বিয়ন্স”।
নাওমির আসল শক্তি তাঁর আত্মবিশ্বাস। জাপানের প্রথম দিকের প্লাস-সাইজ মডেলদের একজন হিসেবে তিনি শরীর নিয়ে সমাজের গতানুগতিক ধারণাকে হাসির ছলে প্রশ্ন করেছেন। এ কারণেই জাপানের বাইরেও তাঁর ভক্ত তৈরি হয়েছে।
২০২৩ সালের দিকে তিনি জাপানের নিয়মিত টিভি কাজ থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ঘোষণাটি তিনি দিয়েছিলেন জাপানি ও ইংরেজি, দুই ভাষাতেই। ভক্তরা অবাক হলেও নাওমি থেমে যাননি। বরং তিনি নতুন করে শুরু করলেন।
নিউইয়র্কে গিয়ে তিনি “Naomi Takes America” নামে একটি পডকাস্ট শুরু করেন। সেখানে আমেরিকানদের সঙ্গে কথা বলে জাপান আর যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতির মিল-অমিল নিয়ে মজা করেছেন।
পরের বছর তিনি মঞ্চে ফেরেন “Stand Up with Naomi Watanabe” নামের একটি শো নিয়ে। নিউইয়র্কের গ্রামার্সি থিয়েটারের টিকিট কয়েক মিনিটে শেষ হয়ে যায়। চাহিদা এতটাই ছিল যে আয়োজকদের দ্বিতীয় একটি শো যোগ করতে হয়েছিল, সেটিও বিক্রি হয়ে যায়।

পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি শহরে একক কমেডি সফর শেষ করেন। এ বছরের জন্য টোকিও ডোমে একক শো করার পরিকল্পনাও প্রচারিত হয়েছে। সেটি বাস্তবায়িত হলে একক কৌতুকশিল্পী হিসেবে এটি হবে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
কমেডির বাইরে ফ্যাশন দুনিয়াতেও নাওমির জায়গা শক্ত। নিজের স্ট্রিটওয়্যার ব্র্যান্ড “পুনিয়াস” তো আছেই, এর পাশাপাশি অ্যাডিডাস x আইভি পার্ক, গ্যাপ, মার্ক জ্যাকবস, ফেন্ডি আর হুগো বসের মতো নামী ব্র্যান্ডের সঙ্গেও কাজ করেছেন। কেট স্পেডের প্রথম জাপানি ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার কৃতিত্বও তাঁর।
২০২৪ সালে বিবিসি তাঁকে বিশ্বের প্রভাবশালী “১০০ নারী”র তালিকায় রাখে। একই সময়ে তিনি ক্যারেক্টার মিডিয়ার “গ্লোবাল গ্রাউন্ডব্রেকার” পুরস্কারও পান।
হলিউডেও তাঁর পদচারণা শুরু হয়েছে। ডিজনি-পিক্সারের অ্যানিমেশন ছবি “এলিও”-তে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। ২০২২ সালে ডজা ক্যাটের “Kiss Me More” গানের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
বিজ্ঞাপনের জগতেও তাঁর চাহিদা কমেনি। ২০১৮ সালে ম্যাট্রেস ব্র্যান্ড এয়ারউইভের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। সাত বছর পর আবারও নতুন ক্যাম্পেইনে ফিরেছেন।
তাঁকে ঘিরে আলোচনার একটি বড় কারণ তাঁর খোলামেলা ও স্পষ্ট মতামত। এ কারণেই জাপানের একজন শীর্ষস্থানীয় কেওএল (KOL) হিসেবে তিনি পরিচিত। তাঁর পছন্দের উজ্জ্বল রং, সৃজনশীলতা আর নিজের মূল্যবোধে অটল থাকার জন্যও ভক্তরা তাঁকে ভালোবাসেন।
সব মিলিয়ে নাওমি ওয়াতানাবে দেখিয়েছেন, নিজের মতো থেকেও বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া যায়। হাসি দিয়ে শুরু করা একজন মানুষ আজ কমেডি, ফ্যাশন আর সিনেমা, তিন জগতেই নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তাঁর পরের পদক্ষেপ কী হবে, সেটি দেখার অপেক্ষায় আছে বিশ্বের লাখো ভক্ত।
তানভীর হাসান
তানভীর হাসান একজন বিনোদন ও পপ-কালচার গবেষক। দেশি-বিদেশি শোবিজ, সেলিব্রিটিদের লাইফস্টাইল ও ট্রেন্ডিং খবর কভার করতে তিনি ভালোবাসেন। তিনি wowbangla.com-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আপনার পছন্দ হতে পারে:

রোলা কে? বাংলাদেশের মেয়ে যেভাবে জাপানের সবচেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেন

কিকো মিজুহারা: মডেল থেকে গায়িকা, ৩৬ বছর বয়সে নতুন পরিচয়ে চমক

সাকুরা মিয়াওয়াকি, HKT48 থেকে লে সেরাফিম, ২০২৬-এ তিনি এখন কোথায়?

সানা এবার পর্দায়! টুয়াইসের তারকার প্রথম সিনেমা নিয়ে যা জানা গেল
