Skip to content

রোলা কে? বাংলাদেশের মেয়ে যেভাবে জাপানের সবচেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেন

রোলা কে? বাংলাদেশের মেয়ে যেভাবে জাপানের সবচেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেন

জাপানে গেলে রাস্তার বিলবোর্ড, টিভির বিজ্ঞাপন বা ম্যাগাজিনের পাতায় একটা পরিচিত মুখ বারবার চোখে পড়বে। মুখটা রোলার। অনেকে জানেন না, এই মডেলের শিকড় বাংলাদেশে।

রোলার জন্ম ১৯৯০ সালের ৩০ মার্চ। জন্মের সময় তাঁর নাম ছিল এরি সাতো। বাবা বাংলাদেশি। মা জাপানি, তবে তাঁর পরিবারে চার ভাগের একভাগ রুশ রক্তও আছে। এই তিন দেশের মিশ্রণই তাঁর চেহারা আর পরিচয়কে আলাদা করেছে।

শৈশবের একটা সময় তিনি বাংলাদেশের গ্রামে কাটিয়েছেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সেটা জাপানের শহুরে মেয়েদের জীবনের সঙ্গে একেবারেই মেলে না।

বাবা পরে এক চীনা নারীকে বিয়ে করেন, আর পরিবার জাপানে ফিরে যায়। টোকিওতে এসে রোলাকে জাপানি ভাষা পড়া, লেখা আর বলা নতুন করে শিখতে হয়েছে। সৎমা আগে চীনে গণিতের শিক্ষক ও ব্যালে নৃত্যশিল্পী ছিলেন। রোলা তাঁকে এই কঠিন সময়ে সাহায্য করার জন্য কৃতজ্ঞ বলে জানিয়েছেন।

তেরো বছর বয়সে পরিবার এক বছরের জন্য আবার বাংলাদেশে যায়, চোদ্দতে ফের জাপানে ফেরে।

মডেলিংয়ে তাঁর শুরু কিশোরীদের ম্যাগাজিন পপটিন দিয়ে। ২০০৮ সাল থেকে তিনি জাপানের জনপ্রিয় ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভিভি-তে নিয়মিত কাজ শুরু করেন। ২০১২ সালের আগস্ট সংখ্যায় প্রথমবার ভিভির প্রচ্ছদে আসেন। একই মাসে বের হয় তাঁর প্রথম ফ্যাশন বই।

২০১১ সাল ছিল তাঁর জন্য বড় মোড়। সে বছর টিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রায় দুইশো বার দেখা গিয়েছিল। জাপানে এই ধরনের টিভি ব্যক্তিত্বকে বলা হয় “তারেন্টো”। রোলা দর্শকের কাছে পরিচিত হন তাঁর প্রাণবন্ত স্বভাব আর সবার সঙ্গে সহজভাবে কথা বলার ধরনের জন্য।

২০১৭ সালে তিনি জাপানের সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপনচুক্তি থাকা তারকাদের তালিকায় শীর্ষে ওঠেন। সে সময় পনেরোটি কোম্পানির সঙ্গে তাঁর চুক্তি ছিল।

আজ ইনস্টাগ্রামে জাপানি মডেলদের মধ্যে তাঁর অনুসারী সংখ্যা সবচেয়ে বেশির মধ্যে পড়ে। সেখানে তিনি নিজের কাজের ছবি আর জীবনযাত্রার কথা শেয়ার করেন।

শুধু জাপানে থেমে থাকতে চাননি রোলা। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে বাড়ি কিনেছেন এবং সেখান থেকেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইংরেজি বলা তাঁর কাছে বৈশ্বিক পরিচিতির পথে জরুরি ধাপ।

লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে তিনি পরিবেশ সচেতনতা আর টেকসই জীবনযাপনের দিকে বেশি নজর দিয়েছেন। নিজের টেকসই লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড “স্টুডিও আর৩৩০” পরিচালনা করছেন। সঙ্গে একটি অলাভজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজও চালাচ্ছেন।

তিনি অভিনয় আর গানেও হাত দিয়েছেন। অপেরা গান গেয়েও আলোচনায় এসেছেন।

রোলার গল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, শুরুর জায়গা কখনো শেষ গন্তব্য ঠিক করে দেয় না। বাংলাদেশের গ্রাম থেকে উঠে এসে তিনি জাপানের বিজ্ঞাপন জগতে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন, আর এখন নজর বিশ্বমঞ্চে।

তানভীর হাসান

তানভীর হাসান একজন বিনোদন ও পপ-কালচার গবেষক। দেশি-বিদেশি শোবিজ, সেলিব্রিটিদের লাইফস্টাইল ও ট্রেন্ডিং খবর কভার করতে তিনি ভালোবাসেন। তিনি wowbangla.com-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *