Skip to content

সানা এবার পর্দায়! টুয়াইসের তারকার প্রথম সিনেমা নিয়ে যা জানা গেল

সানা এবার পর্দায়! টুয়াইসের তারকার প্রথম সিনেমা নিয়ে যা জানা গেল

কে-পপ ভক্তদের কাছে সানা নামটা নতুন কিছু নয়। হাসিখুশি স্বভাব আর মঞ্চে সহজ উপস্থিতির জন্য টুয়াইসের এই সদস্য বছরের পর বছর ভক্তদের প্রিয় হয়ে আছেন। তবে ২০২৬ সালে এসে তাঁর ক্যারিয়ারে যোগ হয়েছে একেবারে নতুন একটি অধ্যায়, অভিনয়।

২০২৬ সালের ৮ জুলাই জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্ট জানায়, সানা প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় আসছেন। ছবির নাম “Nyangi”। এটি কোরিয়া ও জাপানের যৌথ প্রযোজনার সিনেমা, পরিচালনা করছেন কোয়ন হিউক-চান। সানার বিপরীতে মূল চরিত্রে আছেন জাপানি অভিনেতা তাকেরু সাতো।

গল্পটা বেশ অন্যরকম। সানা অভিনয় করছেন একটি বিড়ালের চরিত্রে, যে মানুষ হয়ে উঠতে চায় শুধু অন্য প্রধান চরিত্রের কাছে পৌঁছানোর জন্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী চিত্রনাট্য পড়ার পরই তিনি প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন। শুটিং হবে জাপানে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে, আর কাজ করবেন মূলত কোরিয়ান কলাকুশলীরা।

তাকেরু সাতোর নাম অনেকের কাছেই চেনা। “Rurouni Kenshin” সিরিজে কেনশিন হিমুরার চরিত্রে তাঁর অভিনয় বহুল প্রশংসিত। মজার বিষয় হলো, মিসামোর প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম “Play”-এর টিজার ভিডিওতেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। তাই সানার সঙ্গে তাঁর এই জুটি পুরোপুরি অপরিচিত নয়।

সানার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল এবং ফলোয়ার

অভিনয়ে আসার আগে সানা নিজের পরিচয় গড়েছেন গান ও পারফরম্যান্সে। ১৯৯৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাপানের ওসাকায় তাঁর জন্ম। তিন বছরেরও বেশি প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ২০১৫ সালের অক্টোবরে “Like Ooh-Ahh” গানের মাধ্যমে টুয়াইসের সদস্য হিসেবে অভিষেক হয় তাঁর।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সানা হয়ে ওঠেন টুয়াইসের প্রথম সদস্য, যিনি একক গান প্রকাশ করেছেন। জাপানি ব্যান্ড কোবুকুরোর “Sotsugyou” গানের কাভার দিয়ে তিনি এই কাজটি করেন।

২০২৩ সালের জুলাইতে সানা, মোমো ও মিনাকে নিয়ে জাপানে শুরু হয় টুয়াইসের সাব-ইউনিট মিসামো। প্রথম এক্সটেন্ডেড প্লে “Masterpiece” দিয়েই তাঁরা আলোচনায় আসেন।

সম্প্রতি সেপ্টেম্বরে একটি সাক্ষাৎকারে সানা বলেছেন, মিসামোই তাঁর কাছে টুয়াইসের প্রচারণার সবচেয়ে স্মরণীয় অংশ। ফ্যাশন ম্যাগাজিন Arena Homme Plus-এর অক্টোবর সংখ্যার কভারের জন্য সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়। ইউনিট হিসেবে প্রথমবার দর্শকের সামনে যাওয়ার সময় তাঁর কৌতূহল ছিল প্রচুর। ভক্তদের সমর্থনে বড় মঞ্চেও সফলভাবে পারফর্ম করতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

এত বছর ধরে ক্লান্ত না হয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার শক্তি কোথা থেকে আসে, এই প্রশ্নে সানার উত্তর খুব সহজ, বাকি সদস্যরা। তাঁর কথায়, সবাইকে কঠিন পরিশ্রম করতে দেখলে নিজেও সেভাবে এগিয়ে যেতে ইচ্ছা করে।

মঞ্চের দিক থেকেও ২০২৬ সানার জন্য ব্যস্ত বছর। টুয়াইসের এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় “This Is For” বিশ্ব সফর ছিল প্রায় এক বছরের, ৪৪টি শহরে ৮১টি শো নিয়ে। জুলাইয়ে সফরের শেষ তিনটি শোতেও সানা সদস্যদের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন।

এই সফরের বিশেষত্ব ছিল ইন-দ্য-রাউন্ড মঞ্চ, মানে ৩৬০ ডিগ্রি স্টেজ, যেখানে দর্শকরা যেকোনো দিক থেকে শো দেখতে পান। টুয়াইস প্রথমবার এই ধরনের মঞ্চে পারফর্ম করেছে।

এ ছাড়া জুলাই মাসে “Sana’s Fridge Interview”-এর নতুন সিজন নিয়ে ফিরেছেন তিনি। হালকা মেজাজের এই সিরিজ ভক্তদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

সামনে আরেকটি বড় মাইলফলক অপেক্ষা করছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে টুয়াইসের অভিষেকের ১০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এত লম্বা পথচলায় দলটি নিজেদের পুরোনো গানের পাশাপাশি নতুন অনেক কিছুও করে দেখিয়েছে।

ব্যক্তিগত পরিচিতির দিকেও সানা এগিয়ে। প্রাডা, গ্রাফ, এস্পোয়ার এবং ওয়াইএসএল বিউটি জাপানের মতো ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসাডর হিসেবে তাঁকে দেখা যায়। ফ্যাশন আর বিউটি দুনিয়ায় তাঁর এই উপস্থিতি দেখায় যে তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

ইনস্টাগ্রামে তিনি নিয়মিত সক্রিয়। দলের সদস্যদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, কাজের ঝলক আর দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট ছবি শেয়ার করেন তিনি। ক্যাপশনে কোরিয়ান আর জাপানি ভাষার মিশ্রণ ব্যবহার করেন, যা আন্তর্জাতিক ভক্তদের কাছে বেশ প্রিয়।

সব মিলিয়ে সানা এখন এমন এক জায়গায় আছেন, যেখানে গান, মঞ্চ, ফ্যাশন আর এবার অভিনয়, সবকিছু একসঙ্গে চলছে। “Nyangi” মুক্তির তারিখ এখনো জানা যায়নি। শুটিং শুরু হলে নতুন খবর আসবে, আর সেটাই হবে তাঁর অভিনয় যাত্রার প্রথম বড় পরীক্ষা।

তানভীর হাসান

তানভীর হাসান একজন বিনোদন ও পপ-কালচার গবেষক। দেশি-বিদেশি শোবিজ, সেলিব্রিটিদের লাইফস্টাইল ও ট্রেন্ডিং খবর কভার করতে তিনি ভালোবাসেন। তিনি wowbangla.com-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *