
কে-পপ জগতে নাচের কথা উঠলেই যে নামটা বারবার সামনে আসে, সেটা মোমো হিরাই। TWICE-এর এই জাপানি সদস্য ভক্তদের কাছে “ড্যান্সিং মেশিন” নামেই বেশি পরিচিত। আজ তিনি শুধু একজন নাচিয়ে নন, জাপানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম ব্যক্তিত্বও।
মোমোর জন্ম ১৯৯৬ সালের ৯ নভেম্বর, জাপানের কিয়োটো প্রদেশের কিয়োতানাবে শহরে। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি তাঁর টান ছিল। তাঁর বোন হানাও নাচ ভালোবাসতেন, আর দুই বোন মিলে অনেক সময় একসঙ্গে নাচের চর্চা করতেন।
২০১১ সালে JYP জাপান অডিশনে দুই বোনই অংশ নেন। অডিশন হয়েছিল ওসাকা ও টোকিওতে। সেখানে উত্তীর্ণ হন শুধু মোমো। এরপর তিনি কোরিয়ায় গিয়ে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শুরু করেন, যেখানে ভাষা, সংস্কৃতি আর কঠিন রুটিন সবকিছুই ছিল নতুন।
২০১৫ সালে এল সেই বড় সুযোগ। Mnet-এর সার্ভাইভাল শো “SIXTEEN”-এ অংশ নিয়ে তিনি TWICE-এর চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নেন। ওই বছরের ২০ অক্টোবর “THE STORY BEGINS” মিনি অ্যালবাম দিয়ে গ্রুপটির অভিষেক হয়।
TWICE-এ মোমোর ভূমিকা মূলত মেইন ডান্সার। পাশাপাশি তিনি সাব র্যাপার ও সাব ভোকালিস্টও। মঞ্চে তাঁর শক্তি, নিখুঁত টাইমিং আর তীক্ষ্ণ মুভমেন্টই তাঁকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়।

TWICE-এর তিন জাপানি সদস্য মোমো, সানা ও মিনা মিলে গড়েছেন সাব-ইউনিট MiSaMo। জাপানের বাজারে এই ইউনিটের আলাদা ভক্তগোষ্ঠী আছে, আর মোমোর জনপ্রিয়তাও সেখানে বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো।
এবার আসি ইনস্টাগ্রামের কথায়। ২০২৩ সালে মোমো প্রথম জাপানি ব্যক্তি হিসেবে ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি ফলোয়ারের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন। সে সময় তিনি কমেডিয়ান নাওমি ওয়াতানাবেকে ছাড়িয়ে যান। ২০২৬ সালের তালিকাতেও তিনি জাপানের শীর্ষ ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে উল্লেখিত।
তাঁর ইনস্টাগ্রাম ঘুরে দেখলে বিষয়বস্তু মোটামুটি তিন ধরনের। কনসার্ট ও ইভেন্টের পর্দার আড়ালের ছবি, নতুন গানের প্রচার আর নিয়মিত নাচের অনুশীলনের ভিডিও।
আরেকটা জিনিস ভক্তদের খুব টানে। ভক্তদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতার বার্তা আর মাঝেমধ্যে মজার পোস্ট, যেগুলো তাঁকে একজন সেলিব্রিটির চেয়ে বেশি কাছের মানুষ হিসেবে দেখায়।
ব্র্যান্ডের দুনিয়ায়ও মোমোর উপস্থিতি এখন বেশ শক্ত। ২০২২ সালের অক্টোবরে তিনি জাপানি স্পোর্টস ব্র্যান্ড Onitsuka Tiger-এর অ্যাম্বাসেডর হন। একজন নাচের শিল্পীর জন্য চলাফেরার সুবিধার এই ব্র্যান্ডটি বেশ মানানসই বলেই মনে করা হয়েছিল।
পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালের জুনে, তিনি ইতালীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড Miu Miu-র জাপানি অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হন। তাঁকে প্রায়ই ব্র্যান্ডটির Arcadie ও Beau ব্যাগ হাতে দেখা যায়।
২০২২ সালে তিনি Wonjungyo নামের একটি কসমেটিক ব্র্যান্ডের মিউজও হয়েছিলেন। এছাড়া ২০২৫ সালের মে মাসে সুগন্ধি ব্র্যান্ড AMAFFI-এর অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।
এই কাজগুলো ইনস্টাগ্রামে ফ্যাশন কনটেন্ট হিসেবেও বেশ সাড়া ফেলে। কখনো অনিৎসুকা টাইগারের স্পোর্টি লুক, কখনো Miu Miu-র মিনি স্কার্ট ও কার্ডিগান, প্রতিটি পোস্টেই ভক্তদের মন্তব্যের ঢল নামে।
২০২৫ সালে TWICE ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট ফ্যাশন শোতে প্রথমবার অংশ নেয়। পিংক কার্পেটে তাঁদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এতে বোঝা যায়, কে-পপের গণ্ডি ছাড়িয়ে তাঁরা এখন গ্লোবাল ফ্যাশন মঞ্চেও জায়গা করে নিচ্ছেন।
২০২৬ সালেও মোমো সংবাদের শিরোনামে আছেন। এপ্রিলে “দ্য ডেভিল ওয়ার্স প্রাডা ২” সিনেমার জাপান প্রিমিয়ারে তিনি ও সানা লাল পোশাকে হাজির হন। দুজনকেই সিনেমাটির জাপান অ্যাম্বাসেডর ঘোষণা করা হয়েছে।
জুলাইয়ের শুরুতে তাঁর গ্রীষ্মকালীন ওয়ান-পিস আর স্যান্ডেল পরা একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট জাপানি গণমাধ্যমে আলোচিত হয়। এভাবে নতুন কোনো প্রজেক্ট না থাকলেও তিনি নিয়মিত খবরে থাকেন।
সামনে ভক্তদের জন্য একটি বিশেষ দিনও আসছে। আগামী ৯ নভেম্বর মোমো ৩০ বছরে পা রাখবেন। এই উপলক্ষে ভক্তরা নিশ্চয়ই নতুন কিছুর অপেক্ষায় থাকবেন।
শেষ পর্যন্ত মোমো হিরাইয়ের গল্পটা পরিশ্রমেরই গল্প। অডিশনে একা উত্তীর্ণ হওয়া এক কিশোরী থেকে আজকের বিশ্বমঞ্চের তারকা হয়ে ওঠা সহজ ছিল না। নাচের প্রতি ভালোবাসা আর নিয়মিত চর্চাই তাঁকে এখানে পৌঁছে দিয়েছে।
তানভীর হাসান
তানভীর হাসান একজন বিনোদন ও পপ-কালচার গবেষক। দেশি-বিদেশি শোবিজ, সেলিব্রিটিদের লাইফস্টাইল ও ট্রেন্ডিং খবর কভার করতে তিনি ভালোবাসেন। তিনি wowbangla.com-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আপনার পছন্দ হতে পারে:

সানা এবার পর্দায়! টুয়াইসের তারকার প্রথম সিনেমা নিয়ে যা জানা গেল

রোলা কে? বাংলাদেশের মেয়ে যেভাবে জাপানের সবচেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেন

সাকুরা মিয়াওয়াকি, HKT48 থেকে লে সেরাফিম, ২০২৬-এ তিনি এখন কোথায়?

নাওমি ওয়াতানাবে, জাপানের "বিয়ন্স" এখন নিউইয়র্কে, কী করছেন তিনি?
