Skip to content

রিপ্লাই ১৯৮৮ কেন আজও এই কোরিয়ান ড্রামাকে সেরাদের তালিকায় রাখা হয়

রিপ্লাই ১৯৮৮ কেন আজও এই কোরিয়ান ড্রামাকে সেরাদের তালিকায় রাখা হয়

কোরিয়ান ড্রামা মানেই যে শুধু প্রেম, প্রতিশোধ আর নাটকীয় মোড়, এই ধারণাটা ভেঙে দিয়েছিল রিপ্লাই ১৯৮৮। ২০১৫ সালের নভেম্বরে tvN চ্যানেলে শুরু হওয়া এই ড্রামা এমন এক গল্প বলে, যেটা দেখতে দেখতে মনে হয় আপনি নিজেই সেই পাড়ার একজন বাসিন্দা।

গল্প ঘুরেছে সিউলের উত্তরের ছোট্ট এক মহল্লা সাংমুন-দং ঘিরে। সময়টা ১৯৮৮ সাল, যে বছর কোরিয়া প্রথমবার গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আয়োজন করেছিল। দেশটা তখন বড় হয়ে ওঠার দোরগোড়ায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবন ছিল সাদামাটা আর সংগ্রামে ভরা।

এই মহল্লায় একই গলির পাঁচটি পরিবার থাকে। তাদের পাঁচ কিশোর-কিশোরী একসঙ্গে বড় হয়েছে, স্কুলে গেছে, ঝগড়া করেছে, আবার একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে। কেউ কারও বাড়িতে খাবার পাঠায়, কেউ বিপদে সবার আগে ছুটে আসে। এই প্রতিবেশী-সম্পর্কের উষ্ণতাই ড্রামার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

প্রধান চরিত্র সুং দোক-সুন, যাকে করেছেন হাইরি। তাঁর চার বন্ধুর ভূমিকায় আছেন পার্ক বো-গুম, রিউ জুন-ইওল, কো ক্যুং-পিও আর লি ডং-হুই। গল্পের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে একটা প্রশ্ন: দোক-সুনের মন শেষ পর্যন্ত কার দিকে যাবে? এই কৌতূহল দর্শককে বিশ পর্ব ধরে ধরে রাখে, তবে ড্রামা শুধু এই প্রেমের গল্পে আটকে থাকে না।

বাবা-মায়েদের চরিত্রগুলোই হয়তো এই ড্রামার আসল প্রাণ। সুং দং-ইল, লি ইল-হা, কিম সুং-ক্যুন, ও রা মি-রান প্রমুখ অভিনেতারা অভিভাবকের ভূমিকায় এত স্বাভাবিক অভিনয় করেছেন যে মনে হয় এরা সত্যিই আমাদের চেনা কেউ। সাধারণত কিশোরদের গল্পে বড়রা শুধু পেছনে দাঁড়িয়ে থাকে। এখানে তাদের নিজস্ব সুখ, দুঃখ, অভাব আর স্বপ্ন আছে।

ড্রামায় হাসি আর কান্না পাশাপাশি চলে। এক পর্বে আপনি হাসতে হাসতে শেষ হয়ে যাবেন, পরের পর্বে চোখে জল আসবে। অনেক দর্শকই বলেছেন, শেষ পর্বগুলোর জন্য হাতের কাছে টিস্যু রাখা ভালো।

রিপ্লাই ১৯৮৮, প্রমোশনাল পোস্টার।

পরিসংখ্যানেও সাফল্য কম নয়। ২০১৫ সালের ৬ নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই ড্রামায় মোট পর্ব ২০টি। নিলসেন কোরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৮তম পর্বে জাতীয় গড় রেটিং পৌঁছেছিল ১৭.৮ শতাংশে। ক্যাবল চ্যানেলের জন্য এটা অসাধারণ সংখ্যা। আইএমডিবি ও অন্যান্য রেটিং সাইটেও এর স্কোর প্রায় ৯ এর কাছাকাছি, যা কোরিয়ান ড্রামার জগতে বিরল।

এই ড্রামা সব বয়সের দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়েছিল। চল্লিশের কোঠার দর্শকদের মধ্যে রেটিং ছিল সবচেয়ে বেশি, কারণ তাঁদের কাছে এটা ছিল নিজের কৈশোরে ফিরে যাওয়ার মতো। কিন্তু বিশ-ত্রিশের তরুণরাও এর প্রেমে পড়েছে, কারণ পরিবার, বন্ধুত্ব আর বড় হয়ে ওঠার অনুভূতি সব যুগেই এক।

ড্রামার সঙ্গীতও আলাদা করে বলার মতো। সেই সময়ের জনপ্রিয় গান আর নতুন ধাঁচের সুর মিলিয়ে এমন এক আবহ তৈরি হয়েছে, যা দৃশ্যগুলোকে আরও গভীর করে তোলে।

আপনি যদি ধীর লয়ের, আবেগে ভরা আর একটু নস্টালজিক গল্প পছন্দ করেন, তাহলে রিপ্লাই ১৯৮৮ আপনার জন্য। তবে প্রতি পর্বে চমকে দেওয়া টুইস্ট খুঁজলে হয়তো একটু ধৈর্য ধরতে হবে। গল্পটা এগোয় নিজের গতিতে, আর সেটাই এর সৌন্দর্য।

এটি একটি কাল্পনিক গল্প, কোনো সত্য ঘটনা নয়। রিপ্লাই সিরিজের অন্য ড্রামা না দেখেও এটি স্বচ্ছন্দে দেখা যায়, কারণ প্রতিটি সিজনের চরিত্র ও গল্প আলাদা।

দেখবেন কোথায়? বর্তমানে ড্রামাটি নেটফ্লিক্সে পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশভেদে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বদলে যেতে পারে, তাই দেখার আগে আপনার অঞ্চলে কোথায় আছে তা একবার যাচাই করে নেওয়া ভালো।

সব মিলিয়ে, রিপ্লাই ১৯৮৮ এমন একটি ড্রামা যা শেষ হওয়ার পরও মনে থেকে যায়। হাতে সময় থাকলে প্রথম পর্বটা অন্তত দেখে নিন। এরপর বাকিটা আপনি নিজেই দেখে ফেলবেন।

তানভীর হাসান

তানভীর হাসান একজন বিনোদন ও পপ-কালচার গবেষক। দেশি-বিদেশি শোবিজ, সেলিব্রিটিদের লাইফস্টাইল ও ট্রেন্ডিং খবর কভার করতে তিনি ভালোবাসেন। তিনি wowbangla.com-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *